বিশ্বের অন্যতম সেরা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশের বৃহত্তর বগুড়া জেলার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ নাজমুল হক । তিনি এনওয়াইপিডির বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) একজন সিনিয়র সদস্য। ২৬ জুন শুক্রবার সকালে লোয়ার ম্যানহাটনের ওয়ান পুলিশ প্লাজায় এক অনুষ্ঠানে তার হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে যোগদানের প্রথম ধাপ হচ্ছে অফিসার পদ। পরীক্ষায় উন্নীত হয়ে নাজমুল হক প্রথমে অফিসার এবং পরে ২০২০ সালে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। গত ২৬ জুন তিনি সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট হিসাবে আরো এক ধাপ এগিয়ে যান এবং পদোন্নতি পান। পুলিশ একাডেমীর দুই সপ্তাহের ট্রেনিং শেষে তিনি থানার প্লাটুন কমান্ডার হিসাবে কাজ করবেন বলে মনে করা হয়। অত্যন্ত সজ্জন ও মিষ্টভাষী হিসাবে পরিচিত নাজমুল হক ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সেসময় হাতে গোনা অল্প সংখ্যাক বাংলাদেশি-আমেরিকান নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কঠোর ত্যাগ এবং পরিশ্রমী অফিসার হিসেবে খুব অল্প দিনেই পুলিশ বিভাগে সুনাম অর্জন করেন। পেশার প্রতি কমিটমেন্ট, দক্ষতা ও সেবার অনন্য নজীর স্থাপন করেন বাংলাদেশি অফিসাররা। ফলে অতি অল্পদিনে পুরো পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি অফিসারদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এই পেশায় যোগ দেয়ার পথ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। জনাব নাজমুল হক বলেন , আমার এ পদোন্নতি এ প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে পুলিশ বিভাগে কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। আর তারা এগিয়ে এলেই নিউইয়র্ককে আমরা একটা নিরাপদ, পরিছন্ন, স্বাস্থকর সর্বোপরি সবদিক দিয়ে বসবাসের উপযোগী একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে পারবো।
উল্লেখ্য, তিনি সপরিবারে লং আইল্যান্ডএর নাসাও কাউন্টিতে বসবাস করছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে আমেরিকা আসেন এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক থেকে এনভাইরোনমেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স এ পড়াশুনা করেছেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশের নির্বাহী পদ লেফটেন্যান্ট। এই পদ থেকেই পুলিশের নেভি ব্লু পোশাক চেঞ্জ হয়ে সাদা ইউনিফর্ম হয়ে যায়। সাধারণত লেফটেন্যান্টরা একটা পুরা প্লাটুনকে পরিচালনা করেন। বর্তমানে জনাব নাজমুল হক সহ নিউইয়র্ক পুলিশের লেফটেন্যান্ট পদে রয়েছেন শেষ কিছু বাংলাদেশি। প্রমুখ বাংলাদেশী অফিসারদের মধ্যে খন্দকার আব্দুল্লাহ, ক্যাপ্টেন থেকে ডেপুটি ইন্সপেক্টর ও পরে ইন্সপেক্টর হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশি কারাম চৌধুরী পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি ইন্সপেক্টর হয়েছেন।
বাপার মিডিয়া লিয়াজোঁ ও সার্জেন্ট জসিম মিয়া জানান। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইন্সপেক্টর, ডেপুটি ইন্সপেক্টর ও ক্যাপ্টেন ছাড়াও প্রায় ২০ জন লেফটেন্যান্ট, ৯০ জন সার্জেন্ট, ১৫ জন ডিটেকটিভ এবং চার শতাধিক অফিসার রয়েছেন। এছাড়া সহস্রাধিক বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট রয়েছেন। ট্রাফিক বিভাগের নির্বাহী পদ ম্যানেজার পদেও দায়িত্ব পালন করছেন বেশকয়েকজন বাংলাদেশি। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যর লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতিতে বাংলাদেশী অ্যামেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন একেএম আলম, ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট ডিটেকটিভ স্কোয়াড এরশাদুর সিদ্দিক, ২য় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী এবং সেক্রেটারী ডিটেকটিভ জামিল সরোয়ার অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের এই অর্জন বাংলাদেশী অ্যামেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের প্রতিটি সদস্য উচ্ছ্বসিত বলে জানান তারা। তাদের সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্টাফ রিপোর্টার 






