নিউইয়র্ক ০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড 2026। ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পেলেন নিউইয়র্কের সবার পরিচিত মুখ উত্তম কুমার মন্ডল স্বপ্নের আমেরিকা, ৩৪ বছরের সংগ্রাম—শেষ ঠিকানা হলো দেশের মাটি ! ৫০ বছরের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর, সরকারি টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট … শুভ জন্মাষ্টমী” এবার “শ্রীকৃষ্ণের কততম জন্মবার্ষিকী?” ট্রাইব্যুনালে লোমহর্ষক সাক্ষ্যঃ বলেশ্বর নদীতে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হতো রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ সিলেটের গর্বিত সন্তান Pankaz Talukder সিভিলিয়ান জীবন থেকে U.S. Army Soldier. ক্ষমতার সেকাল, একালঃ প্রভাবশালী আইজি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ পুনর্বহাল, বাদ টুঙ্গিপাড়ার সমাধিসৌধ হেপাটাইটিস ‘এ’-তে আক্রান্ত সনিকা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনপ্রিয় গায়িকা

ট্রাইব্যুনালে লোমহর্ষক সাক্ষ্যঃ বলেশ্বর নদীতে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হতো

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেটের সময়ঃ ০১:২২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
    • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে আব্বাস মল্লিক দাবি করেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গভীর রাতে ট্রলারে করে বলেশ্বর নদীর গভীরে নিয়ে যাওয়া হতো।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয় দোকান বন্ধ ও বাতি নিভিয়ে রাখতে বলা হতো। রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। এ সময় রশি ও সিমেন্টের বস্তাও নেওয়া হতো বলে তিনি আদালতে জানান।

আব্বাস মল্লিকের দাবি, নদীর গভীরে যাওয়ার পর বন্দিদের ট্রলার থেকে বের করে দুই র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে বন্দিদের মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন। পরে মরদেহে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, মরদেহ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো। এছাড়া সুন্দরবন এলাকায় কিছু হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য সাজানো হতো বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তাঁর দাবি, ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘জিয়া স্যার’ ডেকেছেন—এমন ফোন পাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে আব্বাস মল্লিক কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁর ভাইয়ের নিখোঁজের বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার দাবি করেন। তিনি আদালতে তাঁকে হাতকড়া, হেলমেট ও নিরাপত্তা ভেস্ট পরিয়ে আনার বিষয়ে আপত্তি জানান। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগ :

ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড 2026। ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পেলেন নিউইয়র্কের সবার পরিচিত মুখ উত্তম কুমার মন্ডল

ট্রাইব্যুনালে লোমহর্ষক সাক্ষ্যঃ বলেশ্বর নদীতে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হতো

আপডেটের সময়ঃ ০১:২২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে আব্বাস মল্লিক দাবি করেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গভীর রাতে ট্রলারে করে বলেশ্বর নদীর গভীরে নিয়ে যাওয়া হতো।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয় দোকান বন্ধ ও বাতি নিভিয়ে রাখতে বলা হতো। রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। এ সময় রশি ও সিমেন্টের বস্তাও নেওয়া হতো বলে তিনি আদালতে জানান।

আব্বাস মল্লিকের দাবি, নদীর গভীরে যাওয়ার পর বন্দিদের ট্রলার থেকে বের করে দুই র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে বন্দিদের মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন। পরে মরদেহে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, মরদেহ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো। এছাড়া সুন্দরবন এলাকায় কিছু হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য সাজানো হতো বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তাঁর দাবি, ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘জিয়া স্যার’ ডেকেছেন—এমন ফোন পাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে আব্বাস মল্লিক কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁর ভাইয়ের নিখোঁজের বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার দাবি করেন। তিনি আদালতে তাঁকে হাতকড়া, হেলমেট ও নিরাপত্তা ভেস্ট পরিয়ে আনার বিষয়ে আপত্তি জানান। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।