সমাজ কোথায় দাঁড়িয়ে?একটি নাম্বার প্লেট, হাজার প্রশ্নঃ আমরা কি কুরুচির দিকে হাঁটছি?
সন্তানদের সামনে কেমন সমাজ রেখে যাচ্ছি আমরা?
একটি অভদ্র এবং অশ্লীল কুরুচির বহিঃপ্রকাশঃ আমাদের সমাজের দায়ভার কোথায়?
আজকাল ইন্টারনেটে এবং আমাদের চারপাশে এমন কিছু বিষয় চোখে পড়ছে যা দেখে সত্যিই লজ্জিত হতে হয়। অতি সম্প্রতি একটি বিষয় সামনে এসেছে যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করেছে। আমি কথা বলছি নিউ ইয়র্কের একটি গাড়ির নাম্বার প্লেটে ব্যবহার করা অত্যন্ত অশালীন একটি শব্দ নিয়ে।
আমরা সবাই জানি, ভিন্ন ভিন্ন দেশে সংস্কৃতি ভিন্ন হয়, কিন্তু কিছু মৌলিক শালীনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা সব দেশেই এবং সব ভাষাতেই একই। কিন্তু কিছু মানুষ যখন সেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেন, তখন তা পুরো সমাজের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
এই ধরণের নাম্বার প্লেট ব্যবহারকারী সমাজকে কী বার্তা দিচ্ছেন?
১. উগ্র অসদাচরণ ও কুরুচি: এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে ব্যক্তিটি স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে তার মনে অন্য মানুষের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। এটি তার চূড়ান্ত অশালীন মানসিকতা এবং কুরুচির বহিঃপ্রকাশ। তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিষ্টাচারের কোনো তোয়াক্কা করেন না।
২. পরিবার ও মায়ের প্রতি অসম্মান: আপনি এবং আমরা সবাই জানেন এই শব্দটি নির্দিষ্টভাবে কাকে এবং কীভাবে গালি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি পরিবারের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে এই ধরণের শব্দ ব্যবহার করা পুরো পারিবারিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত। এটি শুধু নিজের কুরুচি নয়, বরং তার পারিবারিক মূল্যবোধের ওপরও প্রশ্ন তোলে।
৩. ভাষার অপব্যবহার: কোনো ভাষা গালি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে না। একটি সুন্দর ভাষা এভাবে বিকৃত ও কদর্যভাবে ব্যবহার করা সেই ভাষার ওপরও অপমান।
আমাদের সন্তানদের ওপর এর প্রভাব:
এই ধরনের অশালীনতা আমাদের সন্তানদের ওপর চরম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তারা যখন এমন কিছু দেখে বা শুনে, তখন তারা নিচের বিষয়গুলো শিখতে শুরু করে:
১. শিষ্টাচারের অভাব: সন্তানরা শিখবে যে সমাজে অশালীন আচরণ করা, গালি দেওয়া বা কাউকে অপমান করা স্বাভাবিক বিষয়। তাদের মধ্যে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাবে।
২. মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি: এমন অশ্লীল শব্দের সম্মুখীন হওয়া সন্তানদের মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি তাদের মধ্যে সহিংসতা, আগ্রাসন এবং অসদাচরণ বৃদ্ধি করতে পারে।
৩. ভুল রোল মডেল: তারা যদি এই ধরণের আচরণকে গ্রহণযোগ্য মনে করে, তবে তারা এমন মানুষদেরই রোল মডেল হিসেবে মেনে নিতে শুরু করবে।
আমাদের করণীয়ঃ
আমরা একটি সচেতন সমাজ হিসেবে এমন আচরণ মেনে নিতে পারি না। আমাদের করণীয় হলো:
১. জোর প্রতিবাদ: এই ধরনের অশালীনতা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বা স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। আমাদের জোরালোভাবে এর প্রতিবাদ করতে হবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
২. পরিবারের মধ্যে আলোচনা: আমাদের সন্তানদের সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে কেন এই শব্দগুলো কুরুচিপূর্ণ এবং কেন আমাদের এমন আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত।
৩. কর্তৃপক্ষের নজরে আনা: আমরা যদি জানি কে এই ধরণের নাম্বার প্লেট ব্যবহার করছেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে পারি যাতে এমন অশালীনতা বন্ধ করা যায়।
উপসংহারঃ
আমাদের মনে রাখতে হবে যে সমাজ একটি আয়না। আমরা যা করি, যা বলি এবং যা কিছু গ্রহণ করি, তা-ই আমাদের সমাজের প্রতিচ্ছবি। একটি সুন্দর, সভ্য ও শ্রদ্ধাশীল সমাজ গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। আসুন আমরা সবাই মিলে এই ধরণের অশালীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করি।
…Shah J. Choudhury (New York)
স্টাফ রিপোর্টার 







