যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাসিন্দা এবং কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরে বসবাস করছিলেন।
জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরের দিকে তিনি একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে California Aqueduct এলাকায় যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে তার একটি জোড়া জুতা এবং কিছু মাছ ধরার সরঞ্জাম পড়ে আছে। তার সঙ্গে তিনটি ফিশিং রড ছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি রড এবং একটি হাতলযুক্ত মাছ ধরার জাল নিখোঁজ রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই জলপথটি অত্যন্ত গভীর এবং স্রোতও বেশ শক্তিশালী। প্রতি বছর এই এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলেও জানা গেছে।
এই জলপথের পানি মূলত সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকা থেকে এসে দক্ষিণ দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার কারণে পানির স্রোত শক্তিশালী এবং গভীরতাও অনেক বেশি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভেজা বা পিচ্ছিল পাড়ে পা পিছলে পানিতে পড়ে যাওয়া, মাছ ধরার সময় জাল বা রড টানতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো, অথবা প্রবল স্রোতে হঠাৎ টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। এছাড়া নিখোঁজ ফিশিং রড বা জাল তুলতে গিয়েও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের ঘটনায় পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকারীরা ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রবাসীর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে তার স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী সন্তান চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে সবাইকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একা মাছ ধরা বা ভ্রমণে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 







