বুধবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি.
SKF Company

সবচেয়ে বড় মহামারী বিজেপি: মমতা

০৪-অক্টো-২০২০ | Dhaka Desk | 28 views
momota

নিজস্ব প্রতিনিধি : নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গোটা দলিত সমাজ নির্যাতিত। ফলে করোনা পরিস্থিতি থাকলেও, মানুষের স্বার্থে পথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কলকাতার রাজপথে মিছিল করে তৃণমূল সুপ্রিমো আওয়াজ তুললেন, ‘বিজেপি সবথেকে বড় প্যানডেমিক (মহামারী)। যারা দেশকে শেষ করে দিয়েছে।’
উত্তরপ্রদেশের হাতরাসে দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সারা দেশ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিলের মধ্যে দিয়ে যোগী সরকারকে যেমন বিঁধলেন, তেমনই স্লোগান দিলেন—‘বিজেপি দূর হটো।’ এদিন বিড়লা তারামণ্ডল থেকে ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন মমতা। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে উঠেই তিনি বলেন, ‘আজ, আমি দলিত। আমার মনে হচ্ছিল, এখনই উত্তরপ্রদেশে ছুটে যাই। মন পড়ে আছে সেই ছোট্ট গ্রামে। কিন্তু তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে গ্রামে ঢুকতে দেয়নি উত্তরপ্রদেশের পুলিস।’ অভিযোগ, মারধর করা হয়েছে ওই দলে থাকা তৃণমূলের মহিলা প্রতিনিধিকে। এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, ‘আজ-কাল-পরশু বাধা দেবে। কিন্তু সময় আসবে। আমরা যাবই। কথা বলব পরিবারের সঙ্গে।’ ‌এবার দলিতদের উপর অত্যাচার হয়েছে। এরপর কখনও যদি তফসিলি, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয়, তাহলে সেদিন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আওয়াজকে জোরালো করবেন বলে দৃপ্ত কণ্ঠে জানান মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমার কাস্ট মানবিকতা।’
এদিন মিছিলের আগাগোড়া মমতার হাতে ছিল টর্চ আর কালো কাপড়। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, ‘দলিতদের উপর অত্যাচার হয়েছে। কৃষকদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তফসিলি, ছাত্র-যৌবনদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দেশ আঁধারে। আলোর দিকে নিয়ে আসতেই টর্চ মিছিল করলাম।’
করোনা আবহে দীর্ঘসময় পর পথে নামলেন মমতা। কিন্তু ভিড় এবং কর্মীদের উচ্ছ্বাস আগাগোড়া ছিল একইরকম চেনা। পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে মমতার মিছিলে শামিল হলেন কলকাতা ও জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা। এমনকী, মমতার হাতে যখন টর্চ জ্বলছে, তখন কর্মীরা প্রত্যুত্তর দিলেন মোবাইলের টর্চ জ্বেলে। মমতার কণ্ঠের সঙ্গে মিলল কর্মীদের সুর, ‘বিজেপি নেহি চাহিয়ে।’ নেত্রী বললেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। সুপার অটোক্রেসি (চূড়ান্ত স্বৈরাচার) চলছে। বিজেপি দেশের লজ্জা।’
সিঙ্গুরের তাপসী মালিককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার অনুরূপ মিল মমতা খুঁজে পেয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ঘটনায়। সেইসময় তাঁর ২৬ দিনের অনশন, লড়াই-আন্দোলন দেশ দেখেছে। এবার দলিতহত্যার প্রতিবাদে দলের সব শাখাকে ব্লকে ব্লকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার থেকে পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় কর্মসূচি করতে বলেছেন। তফসিলি জাতিপ্রধান গ্রামে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার করবে তৃণমূল। মমতা যেমন রাস্তায় নেমেছেন, তেমনই তাঁর নির্দেশমতো এদিন রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব আওয়াজ তুললেন, ‘বিজেপি হটাও, বেটি বাঁচাও।’ 

Spread the love

সার্চ/অনুসন্ধান করুন

USA JOBS LINKS