রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি.
SKF Company

মিল্টন ভাইয়ের ভালোবাসা (একটি রম্যরচনা)

১৪-জুলা-২০২০ | usbd24saif | 62 views
nargis-juhi

পর্ব-২ মিল্টন ভাই খুব কষ্ট করে নিজের চাকরিটা বউয়ের শহরে করিয়ে নিলেন।বউকে যে তিনি খুব ভালোবাসেন।বউয়ের সবকিছুর দিকে কড়া মনোযোগ শুরু থেকেই।এখন তার কাছে প্রতিটা রাতই উত্তম বলে মনে হয়।সারাদিন মিল্টন ভাইয়ের গভীর প্রশান্তি লাগে।চোখে- মুখে অদ্ভূত রকমের সুখ খেলা করে।অফিসে কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে গুনগুন করে সুরও ভাজেঁন।একদিন এমন সময় বউটি ফোন করে শুকনো আমলকি আনতে বললেন।তিনিও রোমান্টিক গলায় জানতে চাইলেন, “এটা দিয়ে কি রান্না হবে।”হুংকারসহ জবাব এলো, “এটা দিয়ে কোনো রান্না হবেনা।হেয়ার ট্রিটমেন্ট হবে।বুদ্ধু কোথাকার!”আরেকদিন যখন অ্যালোভ্যারা আনার কথা হলো তখন তিনি পুরোপুরি অপ্রস্তুত।বউয়ের দৃষ্টিতে অপদার্থ,বোকারাম ইত্যাদিতে পরিনত হলেন, কিন্তু অ্যালোভ্যারা চিনতে পারলেন না।এটা দিয়ে কি হয় তাও তিনি জানেন না।বউয়ের কাছ থেকে বর্ননা শুনে খুজঁতে বের হলেন।সারা শহর খুঁজে  শেষে কলোনিবাজারের চিপা রাস্তার মোড়ে পেলেন অ্যালোভ্যারা।তিনি যেটা ইন্টারমিডিয়েটে ঘৃতকুমারি পড়েছিলেন,সেটা এতোদিনে অ্যালোভ্যারা হয়ে গেছে কে জানত!

মিল্টন ভাই একটা বাইক কিনেছেন।বাইকের পিছনে বউকে বসিয়ে সারা শহর ঘুরতে দারুণ লাগছে।বউও খুশি।বউ যখন পেছন থেকে কোমর জড়িয়ে বসেন, বউয়ের খুচরো চুলগুলি তার পিঠের উপর খেলা করতে থাকে,তখন নিজেকে নিজের কাছে সার্থক পুরুষ বলে মনে হয়।একদিন মিল্টন ভাই বউ নিয়ে মার্কেটে গেলেন।বাইকে করে দুজন চললেন।বউ কি কি সব কসমেটিকস্ কিনলেন নিজের জন্য,মিল্টন ভাইয়ের জন্যও।সামান্য কটা জিনিস,বিল আসলো বিয়াল্লিশশো টাকা।বিল বউ দিলেন।চাকুরীজীবী বউ বলে কথা।এবার মিল্টন ভাই ঠিক করলেন বউকে খাওয়াবেন।নিয়ে গেলেন শহরের বিখ্যাত লাবাম্বা রেস্টুরেন্টে।খাওয়া-দাওয়া শেষ হলো।এই বিলও বউটিই দিয়ে দিলেন।মিল্টন ভাই নিজেকে অতি সুখী মানুষদের একজন বলে মনে করতে লাগলেন।বউ নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলেন।মনে মনে ভাবছেন,বউ এভাবে সাপোর্ট দিলে একটা গাড়ি কিনে ফেলা যাবে সহজেই।তারপর বউকে পাশে নিয়ে লং ড্রাইভে চলে যাবেন।এসব সাত-পাচঁ ভাবতে ভাবতে বাইকে স্টার্ট দিলেন।মনে মনে করছেন নানা ধরনের সুখী পরিকল্পনা।কিছুদূর যাওয়ার পর পিছন ফিরে দেখেন বাইকে বউ নেই।

তারমানে বউ উঠেইনি! তিনি চলে এসেছেন! পড়ি কি মরি করে আবার ছুটলেন লাবাম্বার সামনে। গিয়ে দেখেন বউ পা ছড়িয়ে হাপুস নয়নে কান্নাকাটি করছেন আর মোবাইল ফোন টিপে যাচ্ছেন।ধীরে ধীরে যাবতীয় মামাতো ভাই,খালাতো ভাইয়েরা এসে উপস্থিত হতে লাগল।

এখন কি করবেন মিল্টন ভাই? তিনি দিশেহারা…. চলবে……

লেখিকাঃ নার্গিস জুহি, সিনিয়র শিক্ষিকা, (রসায়ন) বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।

Spread the love

সার্চ/অনুসন্ধান করুন