মঙ্গলবার, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি.
SKF Company

ফেসবুকে মানসিক বিকারগ্রস্তদের কিভাবে চিনবেন ?

১৬-এপ্রি-২০২১ | Dhaka Desk | 45 views

ফেসবুকে মানসিক বিকারগ্রস্তদের কিভাবে চিনবেন  ? 

প্রযুক্তির সহজ লভ্যতায় ফেসবুক সব শ্রেণীর মানুষ ব্যাবহার করে। তাই ফেসবুকের গ্রুপ ও পেইজগুলোতে বিকারগ্রস্ত, উন্মাদ, ভাল, মন্দ, শ্লীল-ভাষী ও অশ্লীল-ভাষী, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, জ্ঞানী, মূর্খ ও স্বঘোষিত শিক্ষিত-সহ সব শ্রেণীরই মানুষ দেখা যাচ্ছে। কেতাবি কম শিক্ষিত হওয়া যেমন দোষের কিছু নয় তেমনি উচ্চ শিক্ষিত হওয়াও গৌরবের কিছুই নেই যদি আপনার লেখার ভাষা অত্যন্ত নোংরা হয়। 

এই অনলাইনে ব্যক্তিগত-ভাবে আমরা কতজন কতজনকে চিনি? বন্ধু লিস্টে থাকতে হলে আপনি কত বড় শিক্ষিত, উচ্চ-শিক্ষিত, কোথায় কি করেন, কোথায় থাকেন তা জানার চেয়ে যা শতগুণে গুরুত্বপূর্ণ আপনার রুচিসম্মত লেখা।

আপনার পরিচিতি ও মূল্যায়ন আমার কাছে আপনার ভাষা, শব্দ চয়ন, মন্তব্য, পছন্দ, শালীনতা-বোধ ও পরিমিতি-বোধ দেখ। এরকমও জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বউকে পেটান, বউকে পেটানোর বলেন সপ্তাহে বউকে যদি একদিন না পেটানো হয়, তাহলে বউ মনে করবে সেতো বাপের বাড়ি আছে! বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ খবর নেন না , আবার অক্ষরজ্ঞানহীন এমনও আছে যিনি বাবা-মাকে মাথায় তুলে রাখেন! তো কোন ব্যক্তি সম্মান পাবার যোগ্য?

যাহোক, ফেসবুকেও প্রচুর উন্মাদ ও বিকারগ্রস্ত মানুষ আছেন যাদের মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন, কিন্তু যে জানে না যে সে জানেই না তাকে জানাবেন বা বোঝাবেন কিভাবে? এই উন্মাদরা বন্ধু লিস্টে ঘাপটি মেরে থাকে, কোনোদিন তার নিজের লেখা পাবেন না, অন্যের পোস্টে তার লাইক, কমেন্ট তো নেইই! তার প্রোফাইলে গিয়ে দেখে আসুন, তার নিজের লেখা একটি বাক্যও পাবেন না। 

কিন্তু হঠাৎ করে কি মনে করে উন্মাদের মত কোনো এক পোস্টে এসে বায়ু দূষণ করে! ভাষার কোনো শ্লীলনতা জ্ঞান নেই, অশ্লীলতায় ভরপুর! আবার ফেসবুকের দু লাইন মন্তব্যে বাংলা ও ইংরেজির শব্দের মিশ্রণে আমার মনে হয় চেতনা হারিয়ে গিয়ে অনেকটা ডিজিটাল খিচুরি তৈরি করে। পোস্টের বিষয়-বস্তু অনুধাবন না করে ভাসাভাসা-ভাবে পড়ে প্রসঙ্গহীন কমেন্ট করে।

মন্তব্যের ভাবখানা এমন, ফেসবুকে কি সব আবোল-তাবোল  লেখেন, আমার গবেষণা-মূলক আর্টিকেল ও সাক্ষাৎকার-তো মিয়া বিবিসি, সিএনএন, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, এপি, ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স, সিনহুয়াতে পাবলিশ হয়-তাই ফেসবুকে কিছু লিখিনা! ঐ একটি মন্তব্যই শেষ! ঐ মন্তব্যটি ছিল তার বহু বছরের সাধনা- প্রসব বেদনায় অস্থির ছিলেন, তাই তা প্রসব করেই নিশ্চিন্তে নাক ডেকে ঘুম পাড়েন! 

এরপর তাকে তার নাম উল্লেখ করে শতটা মন্তব্য করলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না, এমনকি ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপ দিয়েও পাওয়া যায় না! দেখুন কত্ত বড় ইতর ও অভদ্র যে তাকে বারবার তার নাম উল্লেখ করলেও আর কোনো জবাব দেয় না! তার বার্তাটা এমন-যা বাবা, আবার দুই বছর পর দেখা হবে তবে দুই বছর নয়-এসব ব্যক্তিকে চিরকাল না দেখাটাই উত্তম।

আগে ফেসবুকে দেখা যেতো চেনাজানা মুখগুলোর কিংবা বন্ধুদের বিয়ে, গেট-টু-গেদার, পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের ছবির এ্যালবাম, মন্তব্য, পছন্দ এগুলো বলতে গেলে ফেসবুক ছিল ভাব আদান প্রদানের সুন্দর একটা মাধ্যম, কিছু ভালো সময় কাটানো যেতো।

এখন News Feed এর দৌরত্বে মনে হচ্ছে এটা পত্রিকাওয়ালাদের খদ্দর বাড়ানোর জন্য হকার-গিরি, সস্তা এবং হলুদ থেকে পঁচে কালো হয়ে যাওয়া সাংবাদিকতা, দেশী/বিদেশী, ছোট/বড় কোম্পানি থেকে শুরু করে পাড়ার পান-বিড়ি-সিগারেট-মলমের দোকানের বিজ্ঞাপন, এ তালিকা আসলে, আমি মফিজ লিখে শেষ

করতে পারবোনা। লাখ টাকার জিনিস (Facebook) ২ টাকার রাস্তার সস্তা যৌনরোগের চিকিৎসার লিফলেটে পরিণত হচ্ছে। মার্ক জুকারবার্গ এখনো সময় আছে ফেসবুকের এই ক্যানসার সারাও!

পরিশেষেঃ ফেসবুকের কল্যাণে বিশ্বের অন্য কোন দেশে ফেসবুকে কেউ খ্যাতিমান হয়েছেন কিনা সে বিষয়ে আমার জ্ঞানের পরিমাণ শূন্য। তবে আমাদের দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশে যে এমন অসংখ্য ফেসবুক বিখ্যাত ও ফেসবুক পীর আছেন তা ফেসবুকে আসলে অহরহ দেখা যায়। 

আবার কোন কোন ফেসবুক খ্যাতিমান-কে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের মনগড়া ও সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত ইতিহাসের টং দোকান খুলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতে। আবার সেই সব ইতিহাসের টং দোকানদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে এই ফেসবুক আলোচিতও হয়।

অবশ্য এসব টং দোকানদারদের দেবতা জ্ঞান করে কেউ কেউ তাদের নিয়ে নোট লিখে আখ্যা দেয় কিংবদন্তি। লেখাটা পড়ে অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করবেন। কিন্তু কোন খারাপ মন্তব্য করার আগে আপনি আপনার চারপাশের বাস্তব পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তা করবেন তারপর আমার লেখাতে মন্তব্য করবেন। ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভাল থাকুন। ধন্যবাদ।

সংগৃহীত – Facebook লাল সুর্য্য

Spread the love

সার্চ/অনুসন্ধান করুন

USA JOBS LINKS