শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি.
SKF Company

পর্দার আড়ালে… যুগে যুগে পুরুষরাও নির্যাতনের শিকার……

২৫-ডিসে-২০২০ | Dhaka Desk | 74 views

 নিলুফার ইয়াসমিন। বাংলাদেশ। December, 25, 2020

“পুরুষ” শব্দের মাঝে আছে বুঝি পৌরুষ বা বীরত্ব আর সাহসিকতার নাম। না ,মনে হয়  এর আড়ালেও আছে অন্য পুরুষের কথা। পুরুষরাও  নির্যাতনের শিকার হয় । এমন কথা কি খুব বেমানান ? পুরুষ মানুষ নির্যাতনের শিকার হন তার পরিবারের কাছে,খুব কাছের মানুষের কাছে । আমরা ভাবি পুরুষ প্রধান পরিবারে বুঝি পুরুষ নির্যাতন একেবারে অবাস্তব।না, তারা প্রকাশ করে না লজ্জায়। আমার পরিচিত একজন মানুষকে আমি প্রতিটি মূহুর্ত ক্ষয় হতে দেখেছি। দেখেছি অপমানে লজ্জায় লাল নীল হলুদ হতে।সে তার সারাজীবনের উপার্জন ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব তারপরও পরিবারের সদস্যদের দাবি কেউ কিছুই পায়নি। শেষ বেলায় সে দেখে তার শূন্য দুটো হাত।পুরুষের নির্যাতন শুরু হয় যখন সে তার লেখা পড়া শেষ করে চাকরি খোঁজা শুরু করে এবং সে যখন বিয়ে করে।লেখা পড়া শেষ একটা চাকরি যোগাতে পারে না বা পারছে না ।কত টাকা পয়সা খরচ করে লেখা পড়া শেখানো হলো ছেলেটিকে। অমুকের ছেলে খারাপ ছাত্র ছিল সারাজীবন ; তাও কত বড় চাকরি পেল । অমুকের ছেলে পড়াশোনা শেষ করার আগেই চাকরি পেয়ে বসে আছে।আর আমাদের ছেলেটা হয়েছে হাঁদারাম। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব কারো কাছে মুখ দেখানো দায়।বিয়ের বয়স তো শেষ হয়ে যাচ্ছে। বুড়ো বয়সে কে বিয়ে দিবে ওর সাথে।এমন হাজারো কথার ভারে সে যখন শেষমেশ একটা চাকরি পেল তারপর শুরু হলো মেয়ে দেখা। ছেলের জন্য পরিবারের সদস্যরা সবাই পছন্দ করে একটা লক্ষ্মী মেয়ে ঘরে নিয়ে এল।তারপর সে হয়ে গেল বউ। বউটার শাশুড়ির সাথে কোনো বনিবনা হয় না। নানান অভিযোগ ছেলেকে হাতের মুঠোয় রেখে সারা দিন অশান্তি।এর জন্য দায়ী কে? ছেলে? না পারে মায়ের মন রাখতে না পারে বউয়ের মন রাখতে।ছেলেটির জীবনে নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। অফিসের নানা রকম ঝামেলা থাকে । সেখানে চলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হরেকরকম হুকুম। এরপর একজন পুরুষ মানুষ যখন একটা শান্তির নীড় খোঁজে তা বোঝার মত জগৎ-সংসারে কেউ নেই।কারণ সে পুরুষ মানুষ। সে তো মানুষ না।তার মন বোঝার চেষ্টা কেউ তখন করবে না।সবাই শুধু চাইবে।তারও যে কিছু প্রয়োজন হতে পারে তা বলা কাপুরুষ নামমাত্র ছাড়া কিছুই নয়।    

 এই পুরুষ নামক মানুষটির একটা মন ছিল। সেখানে ছিল জীবনানন্দ এর বনলতা সেন, ছিল  স্বপ্ন  , সেখানে ছিল নচিকেতার জীবনমুখী  গান বা প্রেমের গান, ছিল দেশ গড়ার মত আদর্শ।সে স্বপ্ন দেখত একজন আদর্শ মানুষ হবে।‌নীতিবান একজন অফিসার যে সব দুর্নীতি মুক্ত করবে। একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ বা শিক্ষক।        তার কিছুই হওয়া হয়নি।সে জীবনের যাঁতাকলে আজ শুধুই   মাংসপিণ্ড।সে আর গুনগুন    করে গাইতে পারে না। পারে না উচ্চস্বরে বলতে—-

 “আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দলে যাই কত বন্ধন,যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খলা আমি মানি না কো কোন আইন। আমি ভরা তরী করি ভরা ডুবি আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন।”

একে কি পুরুষ মানুষ বলে? না মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা বলে।সব সুখ শান্তি আজ বিলীন, শুধু মেরুদণ্ডহীন তেলাপোকার মত বেঁচে থাকা। সমাজের এমন শিরদণ্ডহীন পুরুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন মানবীর জন্য হাহাকার করে। একটু খড়কুটো দিয়ে নিজের লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করে। আবার জীবন শুরু করতে চায়। জীবনের সব কিছু ভুলে আর ভুলে ভরা। এদের চোখের কোনায় আজ চকচক করে জলের ধারা। কিন্তু সে তো পুরুষ কান্না তার মানায় না। জরাজীর্ণ হাত আজ আকঁড়ে ধরতে চায় শক্ত কিছু কিন্তু বলহীন হাতে কিছু ধরা যায়?  ভালোবাসার মোনালিসা বড় জীর্ণ-শীর্ণ ধুলায় মলিন।আজ যে বেলা ফুরায়। পুরুষের এমন নির্যাতন কে বুঝে বা কে বুঝতে পারে।      

   নিলুফার ইয়াসমিন। বাংলাদেশ। December, 25, 2020

Spread the love

সার্চ/অনুসন্ধান করুন

USA JOBS LINKS