মঙ্গলবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি.
SKF Company

নৃসিংহ লীলা

২৭-মে-২০২১ | Dhaka Desk | 218 views

নৃসিংহ লীলা

◆ শ্রীশ্রী নৃসিংহ চর্তুদশীর বিশেষ প্রতিবেদন:

নৃসিংহ_চতুর্দশী (গোধূলী পর্যন্ত নির্জলা উপবাস)

◆ নির্জলা উপবাস থাকতে না পারলে ফল,জল, সবজি প্রসাদ পেতে পারেন। তবে অবশ্যই নৃসিংহদেবকে প্রসাদ  “পনকম্ ” নিবেদন করুন। 

“পনকম্”  হলো 

শীতল জল, 

তাল-মিছরি,  

লেবুর রস এবং 

আদা দিয়ে তৈরি একরকম পানীয় যা নৃসিংহদেবের অত্যন্ত প্রিয়।

 শ্রীশ্রী নৃসিংহ চর্তুদশীর বিশেষ প্রতিবেদন:

◆ ১০০০ টা ব্রত পালন করলে যে পূণ্য হয়, একটা নৃসিংহ চতুর্দশী 

কেউ ভক্তি ভরে করলে তার সেই পূণ্য হয়।

◆ হিরণ্যকশিপুর কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মা তাকে দর্শন দেই ও তার কাছে বর চাইলেন, অমরত্ব বর। কিন্তু ব্রহ্মা বললেন হেহিরণ্যকশিপুর তুমি যে বর চেয়েছ সেটা অমি দিতে পারব না। কারণ আমি নিজেই অমরত্ব না, তাই তুমি এমন বর চাও যা আমিদিতে পারব। 

◆ তখন হিরণ্যকশিপুর চিন্তা করল আমি এমন বর চাইব যা আমাকে

 কেউ হত্যা করতে পারবে না, তখন হিরণ্যকশিপুর বরচাইতে লাগলেন

 যে,, হে শ্রেষ্ঠ বরদাতা, আপনি যদি আমার অভীষ্ট বরই দান করতে চান

, তবে এই বর দেন যাতে আপনার কোনসৃষ্টির কোনও প্রাণী বা পথে, 

ঘাটে,দিনের বেলা,রাতের বেলা, ঘরে, বাইরে, জল, ভূমি,বা আকাশে, 

কোনও পশু,বা কোনও অস্ত্রেরদ্বারা এসবের দ্বারা আমাকে বধ 

করতে না পারে,, বা ব্যাধিগ্রস্ত বা জরাগ্রস্ত না হই। ব্রহ্মা বলল তথাস্তু ।। 

◆ তারপর শুরু হল হিরণ্যকশিপুরের অত্যাচার দেবতাদের ওপর। তখন ভগবানের লীলা শুরু হল তার শুদ্ধ ভক্তের ম্যাধমেপ্রহল্লাদ

 মহারাজ। তাই ভগবানের ভক্ত আবির্ভূত হয়ে প্রহল্লাদ মহারাজ বিষ্ণুদেবের

 আরাধনা করছিল, তখন তার পিতা তাকেবলত লাগে তোমার ভগবান, কে?? 

◆ সে বলত আমার ভগবান বিষ্ণুদেব, তখন হিরণ্যকশিপুর ক্ষীপত হয়ে

 বলতে লাগল যে আমি তোমার জন্মদাতা পিতা তাইআমি তোমার ভগবান,

, কিন্তু প্রহল্লাদ বলল না তুমি আমার ভগবান না, আমার ভগবান বিষ্ণুদেব

 তিনি জগতপালক শ্রীহরিতিনি জগতের পিতা ও বিধাতা তুমি, ত কেবল

 আমার এই জড়জগতের পিতা, আর বিষ্ণুদেব আমার নিত্য পিতা ।।

◆তখন হিরণ্যকশিপুর তার ছেলেকে পাহাড় থেকে ফেলে দেই, হাতির

 পায়ের নিচে দেই, জলন্ত অগ্নিতে নিহ্মেপ করে আর প্রহল্লাদশুধু

 তার প্রভু বিষ্ণুদেবকে শরণ করতে থাকে।

◆ কথায় আছে না,(যে মারে কৃষ্ণ রাখেকে, রাখে কৃষ্ণ মারেকে) ভগবান যদি চাই তাহলে

 পৃথিবীর কোন শক্তি তাকে হত্যা করতেপারবে?? না। তাই যখন কোন কিছুর

 দ্বারা সম্ভব হল না তখন প্রহল্লাদকে কারাগারে

 নিহ্মেপ করল শিকল দিয়ে বেধে রাখল আরমারতে লাগল অার প্রহল্লাদ

 শুধু শ্রীহরিকে ডাকতে লাগল ।। 

◆ তখন হিরণ্যকশিপুর এসে বলল আজ তকে কে বাচাই দেখী তর ভগবান

 কোথায়,, তখন বৈকুণ্ঠধামে মা লহ্মীদেবী বলল হেপ্রভু এখন কি হবে 

প্রহল্লাদকে কে রহ্মা করবে হিরণ্যকশিপুর, ত অমরত্ব মত বর লাভ 

করেছে তাকে কে হত্যা করবে? 

◆ তোমার ভক্তকে রহ্মা করবে কে?, তখন ভগবান বলেন যে অমরত্ব

 মত বর পেয়েছে কিন্তু অমর না আর প্রহল্লাদকে রহ্মা করবেতার ভক্তি,

 তার ভক্তি তাকে হিরণ্যকশিপুর হাত থেকে রহ্মা করবে,,তখন হিরণ্যকশিপুর

 বলল তর ভগবান কি এখানে আছেপ্রহল্লাদ বলল হা আমার প্রভু সর্বতই 

বিরাজমান এখানেও আরও,  এই বলে হিরণ্যকশিপুর সে ঘরের চৌকাঠে

 পিলারে আঘাতকরতে লাগে ।।

◆ তখন হঠাৎ সে স্তম্ভ থেকে বের হয়ে আসে ভক্তের ভগবান শ্রীহরি

 ভগবান বিষ্ণুদেব তখন হিরণ্যকশিপুর বর অনুসারে তাকেবধ করতে

 লাগলেন,, যে ঘরেও না বাইরেও না ঘরের চৌকাঠে কোন নর না পশুও

 না কিন্তু অর্ধেক পশু ও মানুষ নরসিংহ, কোনঅস্ত্রের দ্বারা না, কিন্তু 

নখের দ্বারা বধ করা হয়েছে, সকালে না রাতেও না, কিন্তু গোধূলি 

লগ্নে অর্ধেক দিনও রাত মানে সন্ধায়, জলেও না মাটিতে না আকাশেও না।

◆ কিন্তু হাটুতে রেখে নখের দ্বারা বধ করে তাহলে চিন্তা করে দেখেন

 প্রভুর লীলা জগতেকে বোঝতে পারে যে ভক্তের ডাকে ভগবানতার

 ভক্তকে যেকোন উপায়ে রহ্মা করে এমন কি ভগবানের এই রুপ

 দেখে দেবতারা ও ব্রহ্মাণ্ড কেপে ওঠে এ কি রুপ হঠাৎ এইরুপের

 আবির্ভাব কেউ বোঝতে পারেনি ।। 

◆ ভগবানের এই রুপকে দেবতারাও পর্যন্ত শান্ত করতে পারেনি 

তখন দেবতারা বলল একমাত্র একজন পারে সে তার ভক্তপ্রহল্লাদ

 তখন প্রহল্লাদ প্রভুর কাছে স্তব, প্রার্থনা করতে লাগে তখন প্রভু 

ভক্তের প্রার্থনাই শান্ত হয় ও তাকে কোলে তোলে নেই ওপ্রভু বলে

 হে ভক্ত প্রহল্লাদ আমি তোমাকে দর্শন দিয়েছি এখন তুমি কি বর 

চাও প্রার্থনা কর আমার কাছে আমি তোমাকে বর দেব।।

◆ তখন ভক্ত কি আর কিছু চাওয়ার আছে যে জগতের প্রভু তার 

সামনে তবুও ভগবান বলল তুমি একটা বর চাও যেহুতো আমিতো

মার সামনে প্রকট হয়েছি তখন ভক্ত প্রহল্লাদ বলতে লাগল প্রভু 

তুমি আমার পিতাকে মুক্তি দাও যেহুতো তিনি আমারজড়জগতে পিতা ।

◆ তখন ভগবান বলল হে ভক্ত প্রহল্লাদ তথাস্তু কিন্তু তোমার

 শুধু এই পিতা মুক্তি লাভ করবে না যে গৃহে তোমার মত শুদ্ধ 

বৈষ্ণবভক্ত হবে তার, ২১/কোল আপনা থেকে উদ্ধার হবে, 

পিতৃকুল ১০/কোল,মাতৃকুল ১০/কোল,

 ও নিজের এক কোল মুক্তি লাভ করবে।।হরিবল।।

◆ এই নৃসিংহ ব্রত যে পালন করবে, তার জন্ম-মৃত্যুময় সংসারে থেকে

 রহ্মা পাবে, আর যিনি ব্রতদিন ব্রত লঙ্ঘন করে,চন্দ্র-সূর্যযতদিন

 থাকবে ততদিন নরক যাতনা ভোগ করবে। আমার এই ব্রত

 প্রভাবে অপুত্রক ভক্তপুত্র লাভ করে, দরিদ্র

 ধনশালীহয়,তেজস্কামী তেজঃলাভ করে, রাজ্যকামী রাজ্য 

পায়, আয়ুষ্কামী দীর্ঘায়ু পাই। ভক্তিতে বিশ্বাস এই মাত্র চাই 

সংসার যোনিতে নাহিকোন আর বস্তু তাহার উপর ।।

◆ ভক্তদের অবগতির জন্য শ্রীনৃসিংহদেবের স্তব ও প্রণাম 

 মন্ত্র নিচে প্রদত্ত হলো—

স্তবঃ-

জয় নৃসিংহ শ্রীনৃসিংহ।

জয় জয় জয় শ্রীনৃসিংহ।।

উগ্রং বীরং মহাবিষ্ণুং

জ্বলন্তং সর্বতোমুখম্।

নৃসিংহং ভীষণম ভদ্রং

মৃত্যুর্মৃত্যুং নমাম্যহম্।।

শ্রীনৃসিংহ, জয় নৃসিংহ,  জয় জয় নৃসিং।

প্রহ্লাদেশ জয় পদ্মমুখ পদ্মভৃঙ্গ ।।

◆ প্রণাম মন্ত্রঃ-

নমস্তে নরসিংহায় প্রহ্লাদাহ্লাদ দায়িনে।

হিরণ্যকশিপো র্বক্ষঃ শিখাটঙ্ক নখালয়ে।।

ইতো নৃসিংহঃ পরতো নৃসিংহ

যতো যতো যামি ততো  নৃসিংহো। 

বহির্নৃসিংহো হৃদয়ে নৃসিংহো

নৃসিংহমাদিং শরণং প্রপদ্যে।।

তব কর কমলবরে নখমদ্ভূতশৃঙ্গম্

দলিতহিরণ্যকশিপু তনুভৃঙ্গম।

কেশব ধৃত-নরহরিরূপ জয় জগদীশ হরে।।

ভগবান শ্রীনৃসিংহ দেবের অষ্টোত্তরশত নাম

যে যত বার পারেন পাঠ করুণ হরে কৃষ্ণ.. 

(সংগৃহীত Facebook “Bala Bhadra Das”)

Spread the love

সার্চ/অনুসন্ধান করুন

USA JOBS LINKS