রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি.
SKF Company

ক্যাসুয়া_নাট। একটি ভালোবাসার গল্প।

২৭-জুলা-২০২০ | usbd24saif | 37 views
nargis-juhi

: হ্যালো,শ্রুতি স্পিকিং।
: শ্রুতি! অর্ক ইজ হিয়ার।
: হু অর্ক? যে অর্ক আমায় প্রপোজ করেছিলে?
: ইয়াপ। চিনতে পেরেছো....?

ফোনটা কেটে দিয়ে বিরক্তিতে মুখ কুঁচকায় শ্রুতি।আজকাল কি যে এক সমস্যা হয়েছে,সিঙ্গেল কোনো মেয়েকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়ে যেন ছেলেরা।বিয়ের জন্য হাভাতে সব।

শ্রুতি ঠিক করে ফেলেছে সে বিয়ে করবেনা।কর্পোরেট জব করে।স্মার্ট স্যালারি,ব্র্যান্ডেড গাড়ি,এসি বাড়ি…সুখেই আছে শ্রুতি।শুধু বিয়ের জন্য এই ক্যালাস ছেলেগুলোর হ্যাংলামি যদি না থাকতো!

সেদিন রিকের সাথে কথা হলো।হ্যাংলার মতো সেও বলে উঠল-:সীই শ্রতি,লেটস্ স্টার্ট আ নিউ এন্ড ফ্রেস লাইফ।: নোপ,আই এম স্যাটিসফাইড।আর রিক,ওয়াট এবাউট স্নিগ্ধা? তোরতো একটা হেলদি রিলেশন ছিল ওর সাথে!কমিটমেন্ট ছিল,আমাদের খাওয়াবি,”রেড চিলিসে” উইথ ক্যসুয়ানাট স্যালাড।মনে করে দ্যাখ একবার।

: হু? স্নিগ্ধা? ড্যাম ইট।লিভ স্নিগ্ধা। ডোন্ট নো এবাউট হার? জানিস তো?সে তো কবেই ইউকেতে সেটেলড করে গেছে।ওকে আবার টানছিস কেন?লিভ হার।: তোহ্,  আমার কাছে কী?: কই,তোর কাছেতো কিছু না।লেটস স্টার্ট মানে হলো,তুই তোরটা শুরু কর,আমি আমারটা।তোকে আমার সাথে আসতে বলিনি।বাট,এইযে তুই একা থাকিস,কি করিস, এইজন্য বলছিলাম আরকি!: হেই লিসন্, মা, খালাদের মতো কথা বলিস না তো।আমি দার্জিলিং যাচ্ছি রিক।ভীষন ফ্রেস মেজাজে আছি।এখন ম্যলা বকবক করে ডিস্টার্ব করিস নাতো।: ওয়াট!! আমি তোকে ডিস্টার্ব করি? ওয়েট,কি ভাবিস তুই নিজেকে?লেসন্ শ্রু,নিজেকে এত ইম্পর্টেন্ট মনে করিস না।পরে কাউকে পাশে পাবিনা।অর্কর মতো পলিসড ছেলেকেও তুই ইগনোর করলি! তোর কি ধারনা,তুই খুব ভালো করছিস?ভেবে দেখতো একবার,এই যে আউটিং এ যাস- মনে হয়না,কারো হাত ধরে পাহাড়ে উঠি অথবা অন্য কারো চোখে আকাশ দেখি!তুই কিরে শ্রু,কারো প্রতি একটু এটেনশান দে না!আংকেল- আন্টির সাথেও গেলিনা।এত কিসের অহংকার তোর, কে জানে?আর এতো ফ্রেন্ডস এতো ওয়েলউইশার কাউকেই তোর মনে ধরেনা! কারো সাথে ভালো করে কথা বলিস না পর্যন্ত। একদিন সবাই তোকে ইগনোর করবে কিন্তু। যাহোক,শ্রু,প্লিজ- অর্কর ব্যাপারটা ভেবে দেখিস।বাই..।

রিক চলে গেলে শ্রতির টায়ার্ড লাগে কেমন!কীসব কথা বলে গেল রিক।মম্- ড্যাডের সাথে চলে গেলেই হতো? নাহ্।ওরকম আর্টিফিসিয়াল লাইফ শ্রুতির ভালো লাগেনি কখনও।সেতো আনন্দেই আছে।আচ্ছা ঠিকাছে,পরে এসব নিয়ে ভাবা যাবে।

শ্রুতি মনের আনন্দে লাগেজ ঠিকঠাক করে।ফেভারেট ড্রেসগুলো,ইম্পর্টেন্ট কিটসগুলো ঠিকঠাক করে নেয়।কাল ফ্লাইট।বিকালে টুকিটাকি কেনাকাটার জন্য বের হবার সময় মনে হলো অর্ককে সাথে নেই।: হ্যালো অর্ক,ইটস শ্রুতি হিয়ার।: শ্রু….! ওয়াট হ্যাপেনড?: নাথিং।বাট,শপিং এ যাবো।যাবে আমার সাথে?: ওহ্ নো ডিয়ার,আই’ম বিজি উইথ সামথিং।সরি..: ইটস ওকে।নো প্রবলেম।

ফোন কেটে দেয় শ্রুতি।হঠাৎ কিরকম একটা ডিফরেন্ট ফিলিংস হলো একটু।অর্ক কি তাকে এভয়েট করল?নাহ,অর্কর জন্য নয়,স্পেশালি কারো জন্য নয়- কেমন লোনলি একটা অবস্থা।এমন হলো কেন?
দার্জিলিং এ অফিসের কাজকর্ম সেরে নেয় শ্রুতি। পাহাড়ে বেড়ানোর জন্য অথবা শপিং এর জন্য তেমন আগ্রহ পায়না এবার।সেখান থেকে রিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে।: হ্যালো রিক,ভালো লাগছে না রে!ফিলিং লোনলি।: সরি শ্রু,সেদিন কিসব বলে ফেলেছি।তোকে  হার্ট করা উচিৎ হয়নি। কিন্তু তোর মতো হার্ড নাটের সে ব্যাপারে এতদিন মন খারাপ! অবাক করলি! বাদ দে তো,এন্জয় কর।যা,পাহাড়ে উঠে যা। শপিং কর।মন ভালো হয়ে যাবে।ক্যাসুয়া নাট আনবি  কিন্তু মনে করে।ওসব ড্রাই এলাকার নাটগুলো স্পেশাল।: রিক,আই মিসড  ইউ অল।: তুই ফিরে আয়।অর্কর সাথে তোর ব্যাপারে সেটেলড্ করব।দেখিস ভালো লাগবে।: না রিক,অর্কর জন্য মন কেমন করছে- তা কিন্তু নয়।একা লাগছে,নিঃসঙ্গ লাগছে ঠিকই,কিন্তু সে অর্কর জন্য নয়।: বাই এনি চান্স,আমার জন্য নয়তো?: ধুর বুদ্ধু,তোর জন্য হবে কেন? তুই তো হাদারামই থেকে গেলি।: হা হা হা…।ঠিকাছে ফিরে আয়।কথা হবে।

দেশে ফিরে এক ফ্রেন্ডের রিসিপশন পার্টি নিয়ে খুব বিজি হয়ে পড়ল শ্রুতি।অফিস শেষ করে পার্টির শপিং,খাবারের মেনু, পার্টির ভেনু্ নিয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করল।মাহেন্দ্রক্ষণ এসে উপস্থিত।এবার শ্রুতি অপ্রস্তুত।সবগুলো কাপল এসেছে।শুধু সে সিঙ্গেল।আর মেয়েরাও কেমন ঠোঁট গোল করে হাজবেন্ডদের হানি,হাব্বি,বেব্বি করে ডাকছে।শ্রুতির মেজাজ সপ্তমে উঠল।এত ন্যাগিং করার কি আছে? চলেই আসত।শুধু মেনুতে ক্যাসুয়া নাটের একটি আইটেম  থাকার জন্য থেকে গেল।

কাজের প্রেসার,পার্টির উৎফুল্লতা, কিংবা মন খারাপ যে কারনেই হোক না কেন  শ্রুতির শরীর খারাপ করল।ভীষন জ্বর।বাবা- মাকে মিস্ করতে লাগলো।বন্ধুরা এতই বিজি যে তাকে কেউ দেখতে এলোনা।দুদিন খুব ভুগল শ্রুতি। দ্বিতীয় দিনে রিক এলো।: তুই কি কন্ট্রোল করছিস নাকি? স্কেলিটন হয়ে গেছিস কেন?শ্রুতি কেঁদে ফেলল।রিক অপ্রস্তুত।:তুই তো জানিস না আমি সিক।অনেক জ্বর হয়েছিল আমার। দেখতে তো এলিই না।ফোনটা করলিনা একবার।আমি তোকে বলেছিলাম,ভালো লাগছেনা আমার।: সেতো অনেকদিন আগের কথা।তুই এখনও সেই মন খারাপ নিয়েই পড়ে আছিস!!কিছুক্ষন কথাবার্তা বলে রিক বিদায় নিল।রিক চলে যাবার পর মনে হলো,রিকও তো ভালো ছেলে।কি উদার!কী দারুন মানসিকতা!রিককে এসব বলবে কিনা ভাবে শ্রুতি। নাহ্ থাক।পরে এ নিয়ে হাসাহাসি করবে,বন্ধুদের মাঝে ক্ষ্যাপাবে।

রিক ফিরে এলো কিছুক্ষন পরে।হাতে রেড চিলিসের প্যাকেট।খাবার- দাবার আছে।উইথ ক্যসুয়া নাট স্যালাড।শ্রুতির অনেক পছন্দের আইটেম।রিক টেবিলে খাবার-দাবার রেখে বলল- আয় শ্রু।খেয়ে নে।দেখে তো মনে হয় খেতে পাসনা অনেকদিন।আর খাওয়ার আগে একটা কথা শোন- আমার না তোকে তেমন দরকার নেই।কিন্তু তোর মনে হয় আমাকে দরকার।তাই না! ভেবে দেখ তো…: কীইইই! আমাকে তোর দরকার নেই? সত্যি করে বলতো?তাকা আমার দিকে।হুম, ঠিক বলেছিস,আমার মনে হয় আমার তোকেই দরকার।কিন্তু আমাকে তোর দরকার নেই? আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল..শ্রুতির চোখে চোখ রেখে রিক বলল,আই লাভ ইউ শ্রু।আই লাভ ইউ সোওও মাচ।

লেখিকাঃ নার্গিস জুহি, সিনিয়র শিক্ষিকা, (রসায়ন) বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।

Spread the love

সার্চ/অনুসন্ধান করুন